Skip to Content

Special tour 2026 : বাংলার কিছু বনেদি বাড়ির ঐতিহ্যপূর্ণ দুর্গাপূজা ঘুরে দেখা

In search of some traditional heritage family Durgapuja I have visited Kamalpur Basu Bari, Barsul Dey Bari, Mankar Biswas Bari, Mankar Kabiraj Bari, Kalikapur Rajbari, Guskara Chongdar Bari, Kalna Sen Bari in Purba Bardhaman and Joykrishnapur Banerjee Bari, Bhara Jamidar Bari in Bankura in this year 2026.
22 October 2026 by
Special tour 2026 : বাংলার কিছু বনেদি বাড়ির ঐতিহ্যপূর্ণ দুর্গাপূজা ঘুরে দেখা
Classic Sarathi

October, 2026

Trip No.: - 65

বাঙালির প্রিয় উৎসব দুর্গাপূজা। শরৎকালে রামচন্দ্রের সূচনা করা এই পুজোকে আমরা ‘অকালবোধন’ রূপে চিহ্নিত করে থাকি। ষষ্ঠীতে আমন্ত্রণ ও অধিবাস পর্ব দিয়ে শুরু করে সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান, অষ্টমীতে কুমারীপুজো, সন্ধিপুজো এবং নবমীতে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে দশমীতে সিঁদুর খেলার মধ্যে দিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রথা আজও চলে আসছে। 

বাংলার বনেদি বাড়ির দুর্গাপূজা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি শত শত বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনমেলা। জমিদার বাড়ি বা পুরনো অভিজাত পরিবারগুলির ষোড়শ-সপ্তদশ শতাব্দী থেকে শুরু হওয়া এই পূজা সাধারণত সাধারণ সর্বজনীন পূজার চেয়ে আলাদা হয়। অধিকাংশ বনেদি বাড়িতেই দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবার একচালার মধ্যে অবস্থান করেন। প্রতিমার গড়নে থাকে সনাতন ও সাবেকি রূপ। 

পূজা হয় বাড়ির উন্মুক্ত বা দালান আকৃতির প্রাঙ্গণে, যাকে ঠাকুরদালান বলা হয়। এই দালানগুলো পিলারে ঘেরা এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের নিদর্শন। তার সাথে রয়েছে দেবীকে নিবেদন করা রাজকীয় ভোগ। অন্নভোগ, লুচি, মিষ্টি (যেমন গজা, বালুশাহী, পান্তুয়া), এবং কোথাও মাছ বা আমিষ ভোগেরও প্রচলন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে অষ্টমীর সকালে কুমারী পূজা এবং সন্ধেবেলা নারীদের ধুনো পোড়ানোর প্রথা। 

থিম বা আধুনিক আলোর রোশনাইয়ের চেয়ে এখানে নিয়মনিষ্ঠা, পুরানো রীতি ও আচারের ওপর বেশি গুরুত্ত্ব দেওয়া হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে।

গত বছরের ন্যায় এবারও জমকালো থিম, অনুষ্ঠান, আলোকসজ্জা, মিডিয়া কভারেজ এসব ছেড়ে কিছুটা প্রশান্তি এবং নির্জনতায় উৎসবের মুহূর্ত উপভোগ করতে আমি পূজার দিনগুলিতে পৌঁছে গিয়েছিলাম কিছু বনেদি বাড়িতে; উপভোগ করলাম তাদের ঐতিহ্যপূর্ণ দুর্গাপূজা এবং তার সাথে জেনেও নিলাম সেই সমস্ত পরিবারের দুর্গাপূজার ইতিহাস। 

সেই সমস্ত বনেদি পরিবারের দুর্গাপূজার কাহিনী নিয়েই আমার আজকের এই বিশেষ গল্প। 

কামালপুর বোস জমিদার বাড়ি বা বসু বাড়ির দুর্গাপূজা

ষষ্ঠীর দিন দুপুরেই আমি বেরিয়ে পড়েছিলাম বিভিন্ন বনেদি বাড়ির পুজোর সন্ধানে। প্রথমেই আমি পৌঁছে গিয়েছিলাম দামোদর নদের তীরে কামালপুরের বসু বাড়িতে। দেখলাম তখন তাদের পুজোর প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমা রং করা তখনও সম্পূর্ণ হয়নি। 

Kamalpur Basu Jamidarbari


কামালপুর বোস জমিদার বাড়ি (বা বসু বাড়ি) পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের কামালপুর গ্রামে দামোদর নদের তীরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থান। 

Kamalpur Basu Jamidarbari


ষোড়শ শতকের কোনো এক সময়ে নায়েব দেবনারায়ণ বোসের পিতা, পরিবারের কর্তা কিশোর বসু পরিবারের ভিত্তি স্থাপন করার পর বসুরা কামালপুরে জমিদারী প্রথা শুরু করেন। প্রায় দুই শতাব্দী পরে, পলাশীর যুদ্ধের কয়েক বছর পর, এই পরিবারের বংশধরেরা তাঁদের প্রথম দুর্গাপূজা পালন করেন। এই বিশাল বাড়িটির সেই দিনগুলো ছিল জমজমাট। ২৫০ বছরেরও বেশি পুরনো এই কামালপুর বোস বাড়ির দুর্গাপূজাতে প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি মেনে দেবীর আরাধনা করা হয়।

Kamalpur Basu Jamidarbari


বর্তমানে বাড়িটির সিংহভাগ ধ্বংসাবশেষ বা ভগ্নপ্রায় অবস্থায় থাকলেও, পুরোনো করিডোর এবং ঠাকুরদালান অতীতের আভিজাত্য ও বৈভবের সাক্ষ্য বহন করে। ঠাকুর দালানের সামনে ৪টি শিবমন্দির দেখতে পেলাম। 

স্থানীয় মানুষের মুখে প্রচলিত আছে যে, সন্ধ্যার পর এই ফাঁকা ও ভগ্নপ্রায় প্রাসাদে নানারকম রহস্যময় ঘটনা ঘটে। বহু পর্যটক ও ভ্লগার এই রোমাঞ্চকর এবং ঐতিহাসিক অনুভূতির সাক্ষী হতে এখানে ঘুরতে আসেন। 

বড়শুল দে জমিদার বাড়ির দুর্গাপূজা

কামালপুর বসু বাড়ি থেকে এরপর আমি পৌঁছে গিয়েছিলাম বড়শুল দে জমিদারবাড়ি। তখন বিকালবেলা। দেখলাম সেখানেও তখন পুজোর প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকেই। 

Barsul Dey Jamidarbari


পূর্ব বর্ধমান জেলার দামোদর নদের তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক গ্রাম বড়শুল। এই গ্রামের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্য হলো আড়াইশো বছরের পুরনো দে জমিদার বাড়ি এবং এর বিশেষ দুর্গোৎসব। কথিত আছে, নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ-র আমল থেকে এই বংশের ও জমিদারির পত্তন হয়েছিল। 

প্রায় আড়াইশো বছর আগে বড়শুলের জমিদার ছিলেন যাদব চন্দ্র দে। প্রথম দিকে তাঁর আমলেই এই জমিদার বাড়িতে পুজো শুরু হয়, তবে তা তখন ঘটে-পটে করা হতো। পরবর্তীতে জমিদার গৌরপ্রসাদ দে-এর আমল থেকে এখানে মৃণ্ময়ী বা মূর্তি পূজা শুরু হয়।

বড়শুলের দে বাড়ির দুর্গাপূজার প্রধান আকর্ষণ হলো দেবী প্রতিমার রূপ। এখানে দেবী দুর্গা দশভুজা নন এবং মহিষাসুরও নেই। দেবী এখানে দুই হাতবিশিষ্ট এবং মহাদেবের বাম ঊরুতে বা কোলে উপবিষ্ট থাকেন; তাঁদের একসঙ্গে 'হরগৌরী' রূপে পুজো করা হয়। 

জনশ্রুতি আছে, একসময় গঙ্গাসাগরে যাওয়ার পথে কিছু সাধু এই জমিদার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁদের পরামর্শেই এখানে দশভুজা দুর্গার বদলে 'হরগৌরী' রূপে দেবী আরাধনার প্রচলন হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই রূপে পূজা করলে পরিবারে সমৃদ্ধি ও শান্তি বৃদ্ধি পায়। 

Barsul Dey Jamidarbari Durgapuja

দে জমিদার বাড়ি থেকে বেরোনোর পর সামনেই দেখতে পেলাম স্থানীয় ব্যানার্জী পরিবারের প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন কৃষ্ণ-বলরাম মন্দির এবং মন্দিরের সামনেই রয়েছে দোলমঞ্চ। 

মানকর বিশ্বাস বাড়ির দুর্গাপূজা

সপ্তমীর সকালে আমার প্রথম গন্তব্য ছিল পূর্ব বর্ধমান জেলার মানকর। সেদিন আমার ভ্রমণ সঙ্গী ছিল আমার ভাই শুভজিৎ। মানকর পৌঁছে প্রথমেই আমরা গিয়েছিলাম মানকরের বিশ্বাস বাড়ি। ঘড়িতে তখন সময় সকাল সাড়ে আটটা। বিশ্বাস বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে দেখলাম দুর্গাদালানে তখন সপ্তমীর পূজা চলছে। বাড়ির প্রাঙ্গনে কিছু বাচ্ছা ছেলে-মেয়ে খেলা করছে। পুরো বাড়িটিকেই দেখলাম নতুন রং করা হয়েছে। 

Mankar Biswas Bari


পূর্ব বর্ধমান জেলার মানকর গ্রামের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পরিবার হলো বিশ্বাস বাড়ি। এই বাড়ির ইতিহাস প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো। বিশ্বাস পরিবারের আদি উপাধি ছিল গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাদের আদি নিবাস ছিল পূর্ব বর্ধমানের দিগনগর।

প্রবাদ ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, নবাবের দরবারে কাজ করার সময় বা খাজাঞ্চির দায়িত্ব পালনের সূত্রে এই পরিবার নবাবের বিশেষ আস্থা অর্জন করে। সন্তুষ্ট হয়ে নবাব তাদের ‘বিশ্বাস’ উপাধি প্রদান করেন। এরপর থেকেই তারা গঙ্গোপাধ্যায় পদবির পরিবর্তে ‘বিশ্বাস’ উপাধি ব্যবহার শুরু করেন।পরবর্তীকালে এই পরিবার দিগনগর থেকে মানকরে এসে বসবাস শুরু করে। তারা তসর ও সিল্কের (বিশেষ করে তুষার সিল্ক) ব্যবসা শুরু করেন, যা রামমোহন বিশ্বাসের সময়ে তাঁদের প্রচুর সম্পদ ও প্রতিপত্তি এনে দেয়। 

মানকরের বিশ্বাস বাড়ির ৩০০ বছরের বেশি প্রাচীন দুর্গাপুজো এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এই বাড়ির পুজোয় বিশেষ কিছু অনন্য রীতি প্রচলিত রয়েছে, যেমন - দেবীর অন্নভোগ শুধুমাত্র পরিবারের ব্রাহ্মণ পুরুষরাই প্রস্তুত করেন, সন্ধিপুজোয় মশাল জ্বালানো, বন্দুকের আওয়াজের মধ্য দিয়ে বলি প্রথা, নবমীর দিন নরনারায়ন সেবা ইত্যাদি। 

Mankar Biswas Bari Durgapuja

মানকর কবিরাজ বাড়ির দুর্গাপূজা

বিশ্বাসবাড়ি থেকে বেরিয়ে এরপর আমরা গেলাম প্রায় ৩কিমি দূরে মানকরের কবিরাজ বাড়ি। সেখানেও তখন সপ্তমীর পূজা চলছে। বাড়িটি একেবারেই ভগ্নপ্রায়। বাড়ির প্রাঙ্গনে একটি প্রাচীন হাঁড়িকাঠ দেখতে পেলাম। বাড়ির প্রাঙ্গনে কিছু বাচ্চা ছেলেমেয়েকে হাত ধরাধরি করে খেলা করতে দেখতে পেলাম। 

Mankar Kabiraj Bari


মানকরের অন্য আর একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হলো কবিরাজ বাড়ি। প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ বছরের পুরনো এই বাড়িটি তার সমৃদ্ধ ইতিহাস, প্রাচীন ঐতিহ্য ও পূজা-পার্বণের জন্য বিখ্যাত। এই পরিবারটি বহু শতাব্দী ধরে কবিরাজি বা আয়ুর্বেদ চিকিৎসার জন্য বিখ্যাত ছিল, যে কারণে এটি 'কবিরাজ বাড়ি' নামে পরিচিত।

Mankar Kabiraj Bari


একবার বর্ধমানের রাণীর এক কঠিন রোগ হয়েছিল যা কোনো চিকিৎসক সারাতে পারেননি। পরবর্তীতে ভোলানাথ গুপ্ত (ভোলানাথ কবিরাজ) নামক একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসায় রাণীর রোগ সারিয়ে তোলেন। খুশি হয়ে বর্ধমানের রাজা ভোলানাথ কবিরাজকে মানকর ও তার সংলগ্ন অঞ্চলের জমিদারি এবং বিপুল সম্পত্তি উপহার দেন। এর পরই তারা সেখানে বিশাল অট্টালিকা, দুর্গা দালান নির্মাণ করেন এবং জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপুজো শুরু করেন।


অতীতের এই রমরমা দিনে কবিরাজ বাড়িতে পা রেখেছেন বহু খ্যাতিমান ব্যক্তি, যাদের মধ্যে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আসার কথাও লোকমুখে ও ইতিহাসে প্রচলিত রয়েছে। এছাড়া প্রখ্যাত পরিচালক মৃণাল সেন তাঁর বিখ্যাত 'বাইশে শ্রাবণ' সিনেমার কিছু অংশের শুটিং এই বাড়িতে করেছিলেন। 

আজও এখানে প্রথা মেনে একচালার প্রতিমায় দুর্গাপূজা করা হয়। জৌলুস ও জাঁকজমক আগের মতো না থাকলেও, আজও ঐতিহ্যের রেশ ধরে বংশপরম্পরায় এই পুজো হয়ে আসছে। 

দুর্গাপুজো ছাড়াও এই কবিরাজ বাড়ির সংলগ্ন মন্দিরে প্রায় ৩৫০ বছরের পুরোনো পঞ্চমুণ্ডির আসনে প্রতিষ্ঠিত কষ্টিপাথরের আনন্দময়ী কালী পুজো হয়। সেই কালীমন্দিরের গল্প পরে কোনো একদিন বলবো। 

কালিকাপুর রাজবাড়ির দুর্গাপূজা

মানকর থেকে সেদিন আমরা যখন কালিকাপুর পৌঁছালাম তখন ঘড়িতে সময় সকাল ১০টা। কালিকাপুরের জমিদারবাড়িতে সেইমাত্র সপ্তমীর পূজা শেষ হয়েছে। দেখলাম অনেক মানুষ এখানে এসেছেন এই জমিদারবাড়িকে এবং এই বাড়ির পূজা দেখতে।

Kalikapur Rajbari


পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরার কাছে কালিকাপুরে অবস্থিত কালিকাপুর রাজবাড়ি বা সাত মহলা বাড়ি বাংলার এক ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি। কালিকাপুর রাজবাড়ীর এই দুর্গাপূজা প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব। 

Kalikapur Rajbari


বর্ধমান মহারাজার দেওয়ান ও সদগোপ জমিদার পরমানন্দ রায় এই রাজবাড়িটি তৈরি করেছিলেন। তিনি প্রথমে মৌখিরা গ্রামে জমিদারির পত্তন করেছিলেন। কিন্তু মৌখিরা গ্রামে প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে প্রচণ্ড বন্যা হওয়ায় এবং পরিবারের আকার বৃদ্ধির কারণে তিনি একটু উঁচু ও নিরাপদ ভূমি—অর্থাৎ আজকের এই কালিকাপুরে চলে আসেন। এই রাজবাড়ির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়েছিল ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে। পরমানন্দ রায় তাঁর সাতটি ছেলের জন্য এই বিশাল প্রাসাদে সাতটি আলাদা মহল বা অংশ তৈরি করেছিলেন। স্থানীয় ভাষায় এটি 'সাত মহলা বাড়ি' নামে পরিচিত। রাজবাড়ির ঠিক বাইরেই চমৎকার পোড়ামাটির কাজ করা জোড়া শিবমন্দির রয়েছে —পরমেশ্বর ও হংসেশ্বর মন্দির। 

রাজবাড়ির প্রবেশদ্বার পেরিয়ে উঠানে নাটমন্দির এবং বাঁ দিকে ঐতিহ্যবাহী দুর্গাদালান রয়েছে। এখানেই বংশপরম্পরায় দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। নাটমন্দিরের ছাদ এখন আর নেই, শুধুমাত্র কয়েকটি পিলার দাঁড়িয়ে রয়েছে। 

অতীতে পুজোর সময় ৫২ রকমের ভোগ ও চারদিন ধরে কবিগান, যাত্রাপালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হতো। বর্তমানে রাজবংশের দেড় শতাধিক সদস্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই পুজোয় একত্রিত হন।

কালিকাপুর রাজবাড়িতে কৃষ্ণানবমী তিথি থেকে এখানে পুজোর আচার শুরু হয়। কালিকাপুরাণ অনুসারে এখানে পুজো হয়। কৃষ্ণানবমীতে পশুবলি বা ছাগবলি দিয়ে পুজোর সূচনা হয়। 

রাজবাড়িটির বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত, আগাছায় পূর্ণ এবং অবহেলিত। পেছনের দিকে থাকা পরিত্যক্ত মহলের দেওয়ালে একটি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে—একটি নকল জানালার গায়ে এক নারীর মূর্তি (বাতায়নবর্তিনী)। 

এই পুরনো রাজবাড়ির ভিন্টেজ ও ক্ষয়প্রাপ্ত রূপ বহু পরিচালককে টেনে এনেছে। এখানে 'গয়নার বাক্স', 'নৌডুবি', 'গুপ্তধনের সন্ধানে', 'গুপ্তধনের রহস্য', 'বহুরূপী', 'টিন (Te3n)' এবং 'মা'-এর মতো অনেক বাংলা ও হিন্দি সিনেমার শুটিং হয়েছে। 

কালিকাপুরে সরে যাওয়ার আগে রায় পরিবার প্রায় এক শতাব্দী মৌখিরায় ছিলেন এবং এখানে প্রায় ২০টি প্রাচীন মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। অজয় নদের বর্ষার জলে বারবার প্লাবিত হওয়ার কারণে রায় পরিবারের সদস্যরা পরবর্তীকালে এখান থেকে কাছেই কিছুটা উঁচুতে অবস্থিত কালিকাপুরে চলে যান। 

কালিকাপুর থেকে ফেরার সময় দেখতে পেলাম মৌখিরার সেই পুরনো জমিদার বাড়িটি (যেখানে পরমানন্দ রায় প্রথম বসতি স্থাপন করেছিলেন) এবং সেই সমস্ত প্রাচীন মন্দির। মন্দিরগুলি মূলত ১৭৯৩ থেকে ১৮০১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তৈরি হয়েছিল। 

গুসকরা চোংদার বাড়ির দুর্গাপূজা

কালিকাপুর - মৌখিরা ঘুরে আমরা যখন গুসকরায় চোংদার বাড়ি পৌঁছালাম তখন ঘড়িতে সময় প্রায় দুপুর ১২টা। সূর্য তখন মাথার উপর। বেশ গরম করতে শুরু করল। দেখলাম এখানেও অনেক মানুষ এসেছেন এই জমিদারবাড়ির পূজা দেখতে। 

Guskara Chongdar Bari


পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা শহরের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক আকর্ষণ হলো গুসকরা চোংদার বাড়ি। প্রায় ৪৫০ বছরের প্রাচীন এই জমিদার বাড়ির ইতিহাস এবং ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

চোংদার পরিবারের পূর্বপুরুষেরা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাজে সহায়তার জন্য মূলত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে এসেছিলেন। এই পরিবারের আসল পদবি ছিল চট্টোপাধ্যায়। পরবর্তীকালে বর্ধমান রাজাদের কাছ থেকে তাঁরা পত্তনী লাভ করেন এবং 'চোংদার' উপাধি পান। 

জমিদার চতুর্ভুজ চোংদারের হাত ধরে এই বাড়ির ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজা শুরু হয়। সাড়ে চারশো বছরের পুরনো এই পূজার কিছু অনন্য নিয়ম আজও মেনে চলা হয়:

  • চোংদার বাড়িতে দশমীতে ঘট বিসর্জন করা হয় না। প্রাচীন ইতিহাস অনুযায়ী, এক বছর দশমীর দিন জমিদার চতুর্ভুজ চোংদার এবং তাঁর স্ত্রী বিদ্যাধরী দেবী একসঙ্গে সহমরণ বা ইচ্ছামৃত্যু বরণ করেন। সেই থেকে প্রতি বছর দশমীর দিন এই দম্পতির স্মরণে দুর্গাদালানে বিশেষ শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করা হয় এবং পূজার পবিত্র ঘটটি সারা বছর বাড়িতেই রেখে দেওয়া হয়। 
  • ঐতিহ্য মেনে বন্দুকের গুলি ছুঁড়ে সন্ধিপূজা শুরু হয়। 
  • এই পূজায় দেবী সরস্বতীকে সাধারণ রূপে নয়, বরং কোনো মুকুট ছাড়াই তাঁর তান্ত্রিক রূপ অর্থাৎ নীল সরস্বতী হিসেবে আরাধনা করা হয়। 
  • বর্তমানে জৌলুস কমলেও প্রায় ৫১টি থালায় ভোগ সাজিয়ে এলাকাবাসীকে খাওয়ানোর ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে। 

চোংদার বাড়ি থেকে এরপর আমি আর ভাই বাড়ি ফিরে চললাম কারণ, আমাদের সপ্তমীর ভ্রমণ ছিল এই পর্যন্তই। 

কালনা সেন বাড়ির দুর্গাপূজা

নবমীর দিন সকালে আমি সপরিবারে আমাদের বর্ধমানের কিছু পূজা প্যান্ডেল দেখে বাড়িতে সামান্য টিফিন করে আমি আর আমার বন্ধু দেবব্রত বেরিয়ে পড়লাম কালনার উদ্দেশ্যে। কালনার সেনবাড়িতে যখন পৌঁছালাম ঘড়িতে তখন সময় সকাল ১১টা। 

Kalna Sen Bari


পূর্ব বর্ধমান জেলার ঐতিহাসিক অম্বিকা কালনার সেন বাড়ি তার দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্য এবং বিশেষ করে এক অনন্য দুর্গাপূজার রীতির জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত।

কালনার সেন বাড়িতে আনুমানিক ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেবী দুর্গার আরাধনা হয়ে আসছে।বংশানুক্রমিক নিয়ম মেনে প্রতি বছর রথের দিনই প্রতিমার কাঠামোয় প্রথম মাটি দেওয়া হয় এবং মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হয়। মহালয়ার পরদিন প্রতিপদ থেকেই পূজার ঘট বসে যায়। 

কালনা সেন বাড়ির পূজার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো সাত সমুদ্রের জলের ব্যবহার। গত ২৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই নিয়ম চলে আসছে। পরিবারের কোনো সদস্য ব্যবসা, চাকরি বা ভ্রমণের সূত্রে দেশের বাইরে বা দূর-দূরান্তে যেখানেই যান না কেন, তারা সেখানকার সাগর, মহাসাগর বা প্রধান নদীর জল পাত্রবন্দি করে কালনার বাড়িতে নিয়ে আসেন। পূজার সময় এই সমস্ত বিভিন্ন প্রান্তের জল একত্রিত করে দেবীর মহা স্নানের কাজে ব্যবহার করা হয়।

এই বাড়ির পূজায় সাধারণ মানুষের মতো প্রচলিত অঞ্জলি দেওয়ার প্রথা নেই। এই পরিবারে পশু বলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এখানে দেবী দুর্গাকে প্রচলিত অন্নভোগ দেওয়ারও কোনো রীতি নেই।

এই সেন পরিবারের একজন পূর্বপুরুষ - চন্দ্রকান্ত সেন (সি. কে. সেন) ১৮৭৮ সালে 'সি. কে. সেন অ্যান্ড কোম্পানি' প্রতিষ্ঠা করেন এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী আয়ুর্বেদকে কাজে লাগিয়ে বিখ্যাত 'জবাকুসুম তেল' উদ্ভাবন ও বাজারজাত করেন। চন্দ্রকান্ত সেনের কাকা ছিলেন বিশিষ্ট কবিরাজ বিনোদলাল সেন, যিনি এর আগে চুল পড়া ও চুল পাকা রোধের জন্য ‘কুন্তলবৃষ’ নামক আরেকটি জনপ্রিয় আয়ুর্বেদিক তেল তৈরি করেছিলেন। 

জবাকুসুম তেল শুধু গুণমানেই নয়, আধুনিক বিজ্ঞাপন ও বিপণনেও বিপ্লব এনেছিল।

Jaba Kusum Oil

বাঁকুড়ার জয়কৃষ্ণপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় জমিদারবাড়ির দুর্গাপূজা

দশমীর দিন সকালে আমি একাই বেরিয়েছিলাম বাঁকুড়ার উদ্দেশ্যে। সকাল সাড়ে আটটায় আমি পৌঁছেছিলাম বাঁকুড়ার জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় জমিদারবাড়ি। তখন সেখানে দশমী পূজা শুরু হয়েছে। দেখলাম গ্রামের অনেক মানুষ আসছেন এই বাড়ির পূজা দেখতে। দুর্গাদালানের বারান্দায় বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির মানুষদের সাথে বসে বাঁকুড়ার এই গ্রামে আমি এক সাবেকি দশমীর পূজা উপভোগ করতে লাগলাম। 

Joykrishnapur Banerjee Bari


বাঁকুড়া জেলার জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় জমিদারবাড়ির সাথে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় ৩০০ বছরের পুরানো ইতিহাস। 

আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০ বছর আগে জয়কৃষ্ণপুরের পার্শ্ববর্তী 'ভাটরা' গ্রাম থেকে হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী শবাসনা দেবী এই গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন। তাঁদের হাত ধরেই এই অঞ্চলে জমিদারি প্রতিপত্তি এবং তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতাতেই গ্রামে একাধিক প্রাচীন মন্দির ও স্থাপত্য নির্মিত হয়েছিল। 

জমিদারি আমলের জৌলুসের সাক্ষী হিসেবে এখানে একটি সুন্দর রাসমঞ্চ, বিশাল দুর্গামন্দির এবং মূল চত্বরে শিবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত একাধিক প্রাচীন মন্দির বর্তমান। 

এই বাড়ির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো হাতির পিঠের ওপর নির্মিত একটি তুলসীমঞ্চ, যা স্থাপত্যের দিক থেকে অত্যন্ত বিরল ও বিস্ময়কর। 

Joykrishnapur Banerjee Bari


এখানে রয়েছে টিনের চালের তৈরি একটি বিশাল আটচালা এবং মন্দিরের ঠিক পাশেই অবস্থিত একটি বড় পুকুর বা দীঘি, যা প্রাচীন গ্রাম বাংলার জমিদারির পরিবেশকে ফুটিয়ে তোলে। 

দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে এই প্রাচীন ঠাকুরদালান তার অতীতের জৌলুস ও প্রাণচঞ্চলতা ফিরে পায়।কর্মসূত্রে পরিবারের সদস্যরা কলকাতা ও তার আশেপাশে ছড়িয়ে থাকলেও, পুজোর চার দিন তাঁরা শিকড়ের টানে এই পৈতৃক ভিটেয় ফিরে আসেন। পারিবারিক মেলবন্ধন এবং প্রাচীন নিয়ম-আচার মেনে আজও এখানে সাবেকি পুজো সম্পন্ন হয়। 

ওই বাড়ির কিছু মানুষদের সাথে পরিচয় হয়ে খুব ভালো লাগলো। পূজা শেষে তাদের সাথে অঞ্জলি দিয়ে বিজয়ার  শুভেচ্ছা আদানপ্রদান করে বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে এরপর আমি এগিয়ে চললাম ভড়া গ্রামের দিকে। 

বাঁকুড়ার ভড়া জমিদারবাড়ির দুর্গাপূজা

সেদিন ভড়া জমিদারবাড়ির সামনে যখন এসে পৌঁছালাম তখন সকাল সাড়ে দশটা। দশমীর পূজা কিছু আগেই শেষ হয়েছে। পরিবারের মহিলারা একে অপরের কপালে এবং গালে সিঁদুর মাখিয়ে দিচ্ছেন। 


বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের কাছে ভড়া (বা ভড়ামণি) গ্রামে অবস্থিত জমিদারবাড়ি একটি ঐতিহাসিক ও শতাব্দী প্রাচীন দর্শনীয় স্থান। স্থানীয় এবং পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এই ভড়া জমিদার বংশের ইতিহাস প্রায় ৫০০ বছরের পুরানো।

এই জমিদার বংশের প্রথম পুরুষ বা প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয় গোপাল মন্ডলকে। তাঁর হাত ধরেই এই অঞ্চলে মন্ডল পরিবারের জমিদারি ও আধিপত্য বিস্তার লাভ করেছিল।

জমিদারি শাসন চলাকালীন মূল ঐতিহাসিক বাড়িটি দুবার বড়সড় অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এই দুর্ঘটনার পর এবং পরবর্তী সময়ে বংশের শরিক বা সদস্যরা আলাদা হয়ে যান এবং মূল রাজপ্রাসাদ ছেড়ে তার আসেপাশেই আলাদা আলাদাভাবে নিজেদের বাসস্থান বা বাড়ি তৈরি করে নেন।

বর্তমানে মূল জমিদার বাড়িটির সিংহভাগ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও এখানকার মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপত্যগুলো এখনও টিকে রয়েছে। 

এখানকার ঐতিহাসিক শিব মন্দির এবং রাসমন্দির এখনও সম্পূর্ণ সচল। প্রতি বছর নিয়ম মেনে এখানে নিত্যপূজা ছাড়াও রাস উৎসব ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান ধুমধাম করে উদযাপিত হয়। 

এখানে তিনটি আলাদা দুর্গামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান ও সবচেয়ে বড় দুর্গামন্দিরটি হলো 'বড় মন্ডল' পরিবারের। 

মেজো মন্ডল পরিবারের দুর্গামণ্ডপে যখন পৌঁছে দেবী দুর্গাকে দর্শন করছি, দেখতে পেলাম মা লক্ষ্মীর মুখে লাল কাপড় দেওয়া আছে। পরিবারের এক সদস্যার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম - এই বাড়িতে বিজয়া দশমীর দিন দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দুঃখ ভুলে পরিবারে মঙ্গল কামনায় মা লক্ষ্মীর আরাধনা বা ঘটপূজা করা হয়। দেখলাম দুর্গাদালানের পাশের ঘরেই ঘটপূজা হচ্ছে। 

দশমীর দিন মা দুর্গা কৈলাসে ফিরে যাওয়ার সময় বাড়ির সমস্ত সুখ, শান্তি ও ঐশ্বর্য যেন সাথে করে নিয়ে না যান, তাই ঘরের লক্ষ্মীকে ধরে রাখতে এবং রাজকীয় বৈভব বজায় রাখতে বিজয়ার দিনেই বিশেষভাবে মা লক্ষ্মীর আবাহন ও পূজা করার নিয়ম আছে এই পরিবারে। 

এই ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ির শাস্ত্রীয় আচার মেনে বিজয়া দশমীর পূজার শেষে দেবীর দর্পণ বিসর্জন বা ঘট নাড়ানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দশমীতে মূল প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না। পরিবর্তে, দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা মঙ্গলঘট এবং দর্পণকে (আয়না) বিদায়ের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। 

দশমীর পুজো ও বরণ শেষ হওয়ার পর, মায়ের প্রধান ঘট ও দর্পণটিকে অত্যন্ত সসম্মানে একটি সুন্দর করে সাজানো পালকিতে স্থাপন করা হল। এরপর বাহকেরা সেই পালকি কাঁধে তুলে নিয়ে এবং অন্যান্য ঘট মাথায় করে নিয়ে গ্রামের নির্দিষ্ট পুকুর অর্থাৎ বিসর্জন ঘাটের দিকে রওনা হলেন। এই শোভাযাত্রায় ঢাক, কাঁসর ও শঙ্খধ্বনিতে পুরো গ্রাম মুখরিত হয়ে উঠলো। আমিও তাদের সাথে সেই বিসর্জন ঘাট পর্যন্ত গেলাম। সেদিন আমিও এই পরিবারের সাথে এক ঐতিহ্যপূর্ণ  মুহূর্তের সাক্ষী হলাম। 

ঘাটে পৌঁছানোর পর নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিধি মেনে ঘটের জল পরিবর্তন বা নিরঞ্জন করা হল। এরপর প্রতীকী বিদায় জানিয়ে ঘটগুলিকে আবার রাজকীয় মর্যাদায় মণ্ডপে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল, যা দেবীর বাপের বাড়ি থেকে কৈলাসে যাত্রার এক জীবন্ত রূপক হিসেবে স্থানীয় মানুষের কাছে অত্যন্ত আবেগঘন এক মুহূর্ত।

ঘড়িতে তখন দুপুর ১২টা। এই জমিদারবাড়ির কিছু সদস্য, সদস্যা ও গ্রামের কিছু মানুষের সাথে বিজয়ার শুভেচ্ছা আদান-প্রদান করে ফিরে চললাম বাড়ির দিকে। 

আবারও এক বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা। পরের বছর আবারও এই দুর্গাপূজার সময় আমি বেরিয়ে পড়ব বাংলার বুকে ছড়িয়ে থাকা এরকমই কিছু বনেদি বাড়ির দুর্গাপূজার বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হতে। 

এই ছিল আমার এবছরের দুর্গাপুজোর সময় কিছু বনেদি বাড়ির পুজো নিয়ে বিশেষ এক ভ্রমণ কাহিনী। 

আজ তাহলে গল্প এই পর্যন্তই। যারা আমার website-এ প্রথমবার গল্প পড়ছো, আমার এই গল্প টি ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই আমার বাকি গল্প গুলো পড়তে ভুলো না। আমার গল্প ভালো লেগে থাকলে নীচে দেওয়া Share link থেকে বন্ধুদের share করো। খুব তাড়াতাড়ি ফিরছি আবার এক travel story নিয়ে। Keep visiting my website...


Share the Story

If you like my story share this post with your friends... 



Special tour 2026 : বাংলার কিছু বনেদি বাড়ির ঐতিহ্যপূর্ণ দুর্গাপূজা ঘুরে দেখা
Classic Sarathi 22 October 2026
About Me

Professionally I am a school teacher, but travelling is my passion. Frequently I go out alone with my scooter and explore beautiful places. 

This blog website is made with stories about my travelling.

Read the stories, watch the photos, feel the places and motivate yourself.

Archive
⚠️ Say No to Piracy

Any reproduction or illegal distribution of my digital contents in any form will result in immediate action against the person concerned. Don’t use any of my contents without my own permission.

If you want to use my contents feel free to contact me here: - office@classicsarathi.in.

মহালয়ার সকালে পূর্ব বর্ধমান জেলার আমবনা গ্রামে ত্রৈলোক্যতারিনী দেউল ভ্রমণ
This is a trip to Trailokyatarini Deul at Ambana village in Purba Bardhaman on the morning of Mahalaya